বাক্য কাকে বলে? – সংজ্ঞা, প্রকারভেদ এবং উদাহরণ

0
126

বাক্য কাকে বলে? – সংজ্ঞা, প্রকারভেদ এবং উদাহরণ : ব্যাকরণের অনেক অংশ রয়েছে, যার মধ্যে বাক্যটি প্রধানত থাকে। বাক্যের একটি খুব বড় অংশ বাংলা ব্যাকরণের বলে মনে করা হয়। বাংলা ব্যাকরণে, বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ এবং বাক্যগুলি প্রধানত বাংলা ব্যাকরণের একটি অংশ।

বাক্য কাকে বলে?

বাক্য কাকে বলে

বাক্যের সংজ্ঞা: দুই বা ততোধিক শব্দের একটি অর্থপূর্ণ দল যা সম্পূর্ণ অর্থ প্রদান করে তাকে বাক্য বলে।

উদাহরণ স্বরূপ, “শিশু ঘুমাতে থাকে” বাক্যটি ধরা যাক। এখানে শব্দগুলি একটি নির্দিষ্ট ক্রমে সাজানো হয়েছে যা একসাথে একটি অর্থপূর্ণ গোষ্ঠী গঠন করে। ব্যবহৃত উদাহরণে, শব্দের ক্রম স্থির না হলে অর্থ হারিয়ে যায় এবং অর্থ হারিয়ে যায়।

বাক্যগুলির দুটি অংশ রয়েছে, যা নিম্নরূপ:

  • উদ্দেশ্য
  • বিধেয়

উদ্দেশ্য

যে বিষয়ে তথ্য দেওয়া হচ্ছে তাকে উদ্দেশ্য বলে।

  • রাধিকা নাচে।

এখানে রাধিকা সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, তাই এখানে উদ্দেশ্য হল রাধিকা।

বিধেয়

উদ্দেশ্য সম্পর্কে যে তথ্যই দেওয়া হোক না কেন, তাকে বলা হয় বিধেয়।

  • রাধিকা নাচে।

এখানে রাধিকা নাচছেন, তাই এই বাক্যে নৃত্যই হল বিধেয়।

বাক্যের প্রকারভেদ

বাক্যটি দুটি বেসে বিভক্ত, যা নিম্নরূপ:

  1. রচনার উপর ভিত্তি করে
  2. অর্থের ভিত্তিতে

নীচে আমরা উদাহরণ সহ বিস্তারিতভাবে একটি বাক্যের পার্থক্য সম্পর্কে জানব।

রচনার ভিত্তিতে

  • সরল বাক্য
  • মিশ্র বাক্য
  • যৌগিক বাক্য

সরল বাক্য

যে বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া এবং একটি মাত্র বিষয় আছে এবং সেই বাক্যগুলির উদ্দেশ্য একই, এমন বাক্যকে সরল বাক্য বলে।

সরল বাক্যকে অন্য ভাষায় সরল বাক্যও বলা হয়, বাক্যের একটি উদ্দেশ্য থাকে।

সরল বাক্যের উদাহরণ

  • রাম বই পড়ে।
  • রাধা দৌড়ায়।
  • গঙ্গা পড়াশোনা করে।
  • পরশ খাবার খায়।

মিশ্র বাক্য

যেসব বাক্যে সরল বাক্যের পাশাপাশি অন্য কোনো ধারা থাকে, সে বাক্যগুলোকে মিশ্র বাক্য বলে। একাধিক সাধারণ বাক্য থেকে যৌগিক বাক্য গঠিত হয়, যার মধ্যে একটি প্রধান বাক্য এবং অন্য বাক্যটি নির্ভরশীল এবং এই কারণে যৌগিক বাক্যকেও চিহ্নিত করা হয়।

একটি যৌগিক বাক্যে প্রধান বস্তু এবং প্রধান উপদেশ ছাড়াও এক বা একাধিক সংযোজক ক্রিয়া থাকে। যৌগিক বাক্য গঠনে, প্রধান বাক্য এবং নির্ভরশীল ধারাকে সংযুক্ত করতে অনেকগুলি সংযোগ ব্যবহার করা হয়। যেমন:
নিজেদের মধ্যে, যে, যা, কারণ, যতটা, যতটা, যেমন, কখন, তারপর, কোথায়, সেখানে, যেখানে, সেখানে, যদিও, যদি, যদি, তারপর ইত্যাদি।

মিশ্র বাক্যের উদাহরণ

  • বাইরে যে মহিলা বসে আছেন তিনি হলেন আমার নানী।
  • রুমে যে মেয়েটি বসে আছে সে আমার কাজিন।
  • পরিশ্রম করলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে।
  • আমি ভালো করেই জানি তোমার হাতের লেখা ভালো না।

যৌগিক বাক্য

যে সকল বাক্যে দুই বা ততোধিক ধারা যুক্ত থাকে এবং সকল ধারা প্রাধান্য পায়, সেই বাক্যগুলিকে যৌগিক বাক্য বলে।

দুই বা ততোধিক সরল বাক্য বা যৌগিক বাক্য নিয়ে গঠিত যৌগিক বাক্য। এই বাক্যগুলি একে অপরের উপর নির্ভরশীল নয় এবং conjunction clause এই বাক্যগুলির সাথে যোগ দেয়।

অনেক শব্দ যেমন: এবং, এবং, তারপর, বা, বা, কিন্তু, তাই, এবং, তাই, অন্যথায়, এছাড়াও, কিন্তু ইত্যাদি সংযোজন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই শব্দগুলি থেকে যৌগিক বাক্য গঠিত হয়।

যৌগিক বাক্যের উদাহরণ

  • রাধা অসুস্থ ছিল, তাই সে স্কুলে আসেনি।
  • আমি স্কুলে এসে সে বাসায় চলে গেল।
  • পুনম বইটা পড়লেও বুঝতে পারেনি।
  • তিনি সকালে আমার বাড়িতে আসেন এবং সন্ধ্যায় ফিরে আসেন।

অর্থের ভিত্তিতে

  1. নির্দেশক,
  2. অনুজ্ঞাসূচক,
  3. প্রশ্নসূচক,
  4. আবেগসূচক,
  5. প্রার্থনাসূচক,
  6. সন্দেহবাচক
  7. শর্তসাপেক্ষ।

নির্দেশক বাক্য

যে বাক্যে সাধারণ ভাবে কোনো বর্ণনা, বিবৃতি, তথ্য ইত্যাদি দেওয়া হয়, তাকে নির্দেশক বাক্য বলে। যেমন: আমি খেলছি। তুমি গতকাল এসেছিলে। তারা আমার বাড়ি আসবে। হিমালয় ভারতের উত্তর দিকে অবস্থিত। 

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য

যে বাক্যে কাউকে আদেশ দেওয়া, অনুরোধ করা  বা উপদেশ দেওয়া বোঝায়, তাকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে। যেমন: তুমি আগামীকাল আমার বাড়ি এসো। আমাকে একটা কলম দাও। এবার সবাই বাড়ি চলো। ছেলেটাকে কষ্ট দিও না।

প্রশ্নসূচক বাক্য

যে বাক্যের দ্বারা কোন প্রশ্ন করা হয় তাকে প্রশ্নসূচক বাক্য বলে। যেমন: তুমি কি আজ কলকাতা যাবে? আমার সাথে তোমার কখন দেখা হয়েছিল? আজ সকালে কী খেয়েছ? তোমার আর কত দেরি হবে? তুমি ফুটবল খেলো, তাই না?

আবেগ সূচক বাক্য

যে বাক্যের দ্বারা বক্তার মনের আবেগ বা অনুভূতির প্রকাশ ঘটে তাকে আবেগ সূচক বাক্য বলে। যেমন: হায় হায়, লোকটার কত কষ্ট! তোমাকে নিয়ে আর পারিনা! এ তুমি কী করলে! আবেগসূচক বাক্যের শেষে একটি বিস্ময় চিহ্ন থাকে। তাই এই বাক্যকে চেনা খুবই সহজ।

প্রার্থনাসূচক বাক্য বা ইচ্ছাসূচক বাক্য

যে বাক্যের দ্বারা বক্তর মনের ইচ্ছা বা কামনা প্রকাশ পায়  তাকে প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে। যেমন: ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন। ছেলেটা সুস্থ হয়ে উঠুক। জীবনে অনেক বড় হও।

সন্দেহবাচক বাক্য

যে বাক্যের দ্বারা বক্তার মনের সন্দেহ প্রকাশ পায় তাকে সন্দেহবাচক বাক্য বলে। যেমন: তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে? পাছে কেউ দেখে ফেলে! হয়তো আমাকে তুমি ভুলে গেছো। বুঝিবা এক্ষুনি এসে পড়ে।

শর্তসাপেক্ষ বাক্য

যে বাক্যে একটি ক্রিয়া সম্পাদনের শর্তে অপর একটি ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে শর্তসাপেক্ষ বাক্য বলে। যেমন: তুমি এলে আমি যাব। সূর্য উঠলে পদ্ম ফুল ফুটবে।  যদি রাম আসে তাহলে শ্যাম‌ও আসবে।

উপসংহার

তো বন্ধুরা আশাকরছি যে আপনার আমাদের বাক্য কাকে বলে? – সংজ্ঞা, প্রকারভেদ এবং উদাহরণ এই আর্টিকেলে টি পছন্দ হয়েছে। আপনার যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার বন্ধু এবং প্রিয়জন দেড় সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here